কঠোর নজরদারিতে এমপি-মন্ত্রীরা : গোয়েন্দা রিপোর্টে ২৩ এমপি ও ৫ মন্ত্রীর নাম।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ডিএমকে নিউজ ঢাকা।
১২/০৪/২৬ রোজ রবিবার।
রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জিং করতে এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছেন তারেক রহমান। এমপি ও মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা। ইতিমধ্যে প্রথম দফার গোয়েন্দা রিপোর্টে ২ জন মন্ত্রী, ৩ জন প্রতিমন্ত্রী এবং ২৩ জন এমপির ‘প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রমের’ তথ্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা পড়েছে।
ত্রিস্তরীয় গোয়েন্দা নজরদারি
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অনিয়ম রোধে তারেক রহমানের নির্দেশনায় তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে:
১. প্রথম স্তর: গোয়েন্দা সংস্থার একটি বিশেষ দল সরাসরি মাঠ পর্যায়ে এমপি-মন্ত্রীদের কার্যক্রম মনিটরিং করছে।
২. দ্বিতীয় স্তর: প্রথম দলের রিপোর্ট সঠিক কি না, তা যাচাই (Cross-check) করতে নিয়োজিত আছে দ্বিতীয় আরেকটি গোয়েন্দা টিম।
৩. সমন্বয়: প্রতি দুই সপ্তাহ অন্তর প্রধানমন্ত্রীকে আপডেট দেওয়া হচ্ছে এবং দেড় থেকে দুই মাস অন্তর অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির ওপর চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করা হচ্ছে।
'পারফর্ম না করলে পদত্যাগ'—কঠোর হুঁশিয়ারি
শপথ গ্রহণের দিন থেকেই তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—"বিশ্বাস রেখেছি, কাজ করে প্রমাণ করুন।" সরকারের নীতি অনুযায়ী, আগামী ৬ মাসের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হলে বা দুর্নীতি-অনিয়মের প্রমাণ মিললে যেকোনো সময় হারাতে হতে পারে মন্ত্রিত্ব। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যোগ্যতার প্রমাণ দিতে না পারলে সেই স্থানে নতুন কাউকে দায়িত্ব দিতে দ্বিধা করবে না সরকার।
সচিবালয়ে 'তদবিরবাজ' ও পিএস-এপিএসদের ওপর নজর
শুধু এমপি-মন্ত্রীরাই নন, গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন তাদের একান্ত সচিব (PS) এবং সহকারী একান্ত সচিবরা (APS)।
সচিবালয়ে মন্ত্রীদের কক্ষে কারা প্রবেশ করছেন, তাদের নাম-ঠিকানা ও অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চিহ্নিত তদবিরবাজদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
কোনো মন্ত্রী যদি এই তদবিরবাজদের প্রশ্রয় দেন, তবে সেই তথ্য সরাসরি রিপোর্টিং আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে চলে যাচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত দুইজন ব্যক্তি।
জিয়াউর রহমানের দর্শনে প্রত্যাবর্তন
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, "আমি রাজনীতিবিদদের জন্য রাজনীতি কঠিন করে দেব।" তারেক রহমানের বর্তমান কঠোর অবস্থান সেই দর্শনেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আগামী ৬ মাসের মধ্যে প্রশাসনে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন কিছু আমূল পরিবর্তন আসতে পারে, যা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যাবে। দুর্নীতি, কমিশন-বাণিজ্য এবং টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে এই 'জিরো টলারেন্স' নীতি কতটুকু কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
ডিএমকে নিউজ (DMK NEWS)
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে আপসহীন।