ভিডিও
ads
২৮ এপ্রিল, ২০২৬

পরমাণু যুগে চূড়ান্ত পদক্ষেপ বাংলাদেশের: রূপপুরে শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক জ্বালানি লোডিং।

অনলাইন ডেস্ক

পরমাণু যুগে চূড়ান্ত পদক্ষেপ বাংলাদেশের: রূপপুরে শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক জ্বালানি লোডিং।

পরমাণু যুগে চূড়ান্ত পদক্ষেপ বাংলাদেশের: রূপপুরে শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক জ্বালানি লোডিং।

উপ-শিরোনাম::

আজ থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ইউরেনিয়াম লোড করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, আগস্টে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা।

[বিশেষ সংবাদদাতা | ঈশ্বরদী, পাবনা | ২৮ এপ্রিল ২০২৬]

পদ্মা নদীর তীরে ঈশ্বরদীর রূপপুর এলাকায় আজ রচিত হচ্ছে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়। এক দশকেরও বেশি সময়ের প্রতীক্ষা, বিশাল অবকাঠামো নির্মাণ এবং জটিল কারিগরি সক্ষমতা অর্জনের পর অবশেষে পরমাণু শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করেছে দেশ। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল), আনুষ্ঠানিকভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে (Reactor) পারমাণবিক জ্বালানি বা ‘ইউরেনিয়াম’ লোড করার ঐতিহাসিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আজ বিকেলের দিকে এই প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। এটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদী এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

একটি দীর্ঘ যাত্রার চূড়ান্ত পর্যায়

রূপপুর প্রকল্প বাংলাদেশ ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত দেশের সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় ঈশ্বরদীতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পথে। গত ১৬ এপ্রিল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এই ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ‘কমিশনিং লাইসেন্স’ প্রদান করে, যার পর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।

ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ

আজকের এই ঐতিহাসিক জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধান অতিথির উপদেষ্টা এবং রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। রোসাটমের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল আজ সকালেই ঢাকায় পৌঁছান। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি ভার্চ্যুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কী হবে এই ধাপে?

জৈবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর, চুল্লিপাত্রে একটি একটি করে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি বা জ্বালানি গুচ্ছ লোড করা হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ার পর, পরমাণু বিকিরণ ঘটানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অন্যান্য কারিগরি যাচাইয়ের মাধ্যমে রিয়্যাক্টরটি চূড়ান্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ অপারেটিং লাইসেন্স লাভ করেছেন, যারা রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

জ্বালানি লোডিং এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলি সফলভাবে সম্পন্ন হলে, আশা করা হচ্ছে যে আগামী আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হবে। প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাতে আরও প্রায় আট থেকে ১০ মাস সময় লাগতে পারে, যা ২০২৭ সালের জানুয়ারির দিকে সম্পন্ন হবে বলে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দুটি ইউনিট পূর্ণ উৎপাদনে গেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম হবে। এছাড়া দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি লোডিংয়ের কাজও এই বছরের শেষের দিকে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে, এবং ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্পটি হস্তান্তরের লক্ষ্য রয়েছে।

একটি জাতির স্বপ্নপূরণ

জ্বালানি লোডিংয়ের এই যাত্রা বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোর অভিজাত তালিকায় ৩৩তম দেশ হিসেবে স্থান পাওয়াকে নিশ্চিত করেছে। এটি শুধু একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়, এটি বাংলাদেশের কারিগরি সক্ষমতা এবং উন্নত ভবিষ্যৎ রচনার এক দৃঢ় প্রতীক। DMK NEWS এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হিসেবে রূপপুরের প্রতিটি খবরের আপডেট আপনার কাছে পৌঁছে দেবে।

DMK NEWS এর সাথে যুক্ত থাকুন, নতুন নতুন আরো খবর জানতে।

ads

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ