সরকারের দুই মাস: প্রধানমন্ত্রীর ৬০টি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ এক অবিস্মরণীয় অর্জন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ DMK NEWS
বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের রক্তস্নাত অধ্যায় পেরিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। এই স্বল্প সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কার ও জনকল্যাণে গৃহীত ৬০টি যুগান্তকারী পদক্ষেপকে 'অবিস্মরণীয় অর্জন' হিসেবে অভিহিত করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রেস উইংয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও নেতৃত্বের দৃঢ়তা সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পুনরুত্থান প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বখ্যাত সাময়িকী 'টাইম'-এর বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্থান পাওয়াকে দেশের জন্য এক বড় বৈশ্বিক স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে ৬০টি বিশেষ পদক্ষেপ (একনজরে) মুখপাত্র মাহদী আমিন সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ৬০ দিনে বাস্তবায়িত ও সূচিত প্রধান পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন: ১. সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ফ্যামিলি কার্ড: নারীর ক্ষমতায়নে ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তাসহ ফ্যামিলি কার্ড প্রদান। কৃষক কার্ড: ১০টি জেলায় ২২ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে ১০টি সুবিধাসহ 'কৃষক কার্ড' বিতরণ। ঋণ মওকুফ: ১২ লাখ ক্ষুদ্র কৃষকের ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ। ২. সুশাসন ও আইনি সংস্কার সংসদীয় রেকর্ড: মাত্র দুই মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের অনন্য নজির। মানবাধিকার: গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ মানবাধিকার রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান। দুর্নীতি দমন: বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে ১০টি দেশের সাথে আইনি সহায়তা জোরদার। ৩. শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ই-হেলথ কার্ড: সবার কাছে গুণগত চিকিৎসা পৌঁছাতে ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত। নতুন নিয়োগ: প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ (যার ৮০% নারী)। ভর্তি ফি বাতিল: প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি নেওয়ার নিয়ম বাতিল এবং শিক্ষাবৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ করা। উচ্চশিক্ষা: বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি। ৪. জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়ন জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ: বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও দেশে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা ও 'ফুয়েল কার্ড' পাইলটিং। সৌর বিদ্যুৎ: ২০৩০ সালের মধ্যে ১০,০০০ মেগাওয়াট লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়া শুরু। নদী রক্ষা: ২০,০০০ কিলোমিটার নদী-খাল খনন কর্মসূচি এবং নদী দখল রোধে কঠোর আইন। ৫. শ্রমবাজার ও অর্থনীতি মালয়েশিয়া বাজার: পুনরায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণ এবং ইউরোপের ৭টি দেশের সাথে চুক্তি। ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি: ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ। বিনিয়োগ: বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করতে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদন শিথিল। ৬. প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত দৃষ্টান্ত ও ব্যয় সংকোচন মিতব্যয়িতা: রাষ্ট্রীয় ভবন 'যমুনা' ব্যবহার না করে প্রধানমন্ত্রী নিজের বাড়িতে থাকছেন এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহার করছেন। প্রটোকল হ্রাস: সাধারণ ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় চলাফেরা এবং শনিবারও অফিস করার মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন। শুল্কমুক্ত সুবিধা বর্জন: মন্ত্রী ও এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। ডিজিটাল বাংলাদেশ ও বাক্স্বাধীনতা সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকার সর্বোচ্চ বাক্স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। বিগত দুই মাসে গণমাধ্যম ও সাধারণ নাগরিকরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করছেন। এছাড়া ডাকবিভাগ ও ভূমি সেবাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার মাধ্যমে দালাল চক্র নির্মূলের কাজ শুরু হয়েছে। উপসংহার মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দেশের মানুষের হারানো আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে এনেছেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে আমরা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।" সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে আগামী দিনগুলোতেও সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগের পাশে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
© কপিরাইট: DMK NEWS

